শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ন
আদালতের রায়ে জাতীয় পার্টিতে ফের দ্বন্দ্বের নাটকীয় মোড়!
অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত। পাশাপাশি, বহিষ্কৃত ১১ জন শীর্ষ নেতাকে দলীয় পদে পুনর্বহালের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ মো. নুরুল ইসলাম এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যম।
আদালতের এ আদেশটি মূলত বুধবার (৩০ জুলাই) জারি করা হয়।
আদালতের রায়ে বলা হয়— জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ অন্যান্য প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আইনি ভিত্তিহীন। তারা তাদের পুরোনো পদেই বহাল থাকবেন।
স্বপদে পুনরায় ফিরেছেন আরও যাঁরা— প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলাইমান আলম শেঠ, জহিরুল ইসলাম জহির, নাজমা আক্তার, মোস্তফা আল মাহমুদ, আরিফুল রহমান, নাসির উদ্দিন মাহমুদ, জসিম উদ্দীন জসিম ও দপ্তর সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক খান।
এই রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “এই ঐতিহাসিক রায় প্রমাণ করেছে যে ন্যায়বিচার ও সংবিধান এখনো জীবিত। সত্যকে চিরতরে চাপা দেওয়া যায় না, আর দলীয় গঠনতন্ত্রকে অবজ্ঞা করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা সম্ভব নয়। স্বৈরতন্ত্র ও একক কর্তৃত্বের বিপক্ষে আদালতের এ সিদ্ধান্ত একটি সাহসী বার্তা।”
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় পার্টি কখনো একক কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি লক্ষ মানুষের রাজনৈতিক আশ্রয়। আজকের আদালতের রায়ে গণতন্ত্রের পথে ফেরার সুযোগ তৈরি হলো। আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানাই এবং দলের নেতা-কর্মী ও দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। সত্যের বিজয় হোক, অহংকারের পরাজয় হোক।”
হাওলাদার যোগ করেন, “এখন জাতীয় পার্টির প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীকে নিয়ে আমরা গড়ে তুলবো পল্লীবন্ধু এরশাদের স্বপ্নের সংগঠন। দলীয় ঐক্য বজায় রেখে একটি মানবিক, প্রগতিশীল ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ার লড়াই অব্যাহত থাকবে। প্রয়াত এরশাদের সৈনিক হিসেবে আমরা সেই পথেই হাঁটব।”